ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য উদযাপন
ইসলামাবাদে স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য উদযাপন

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য উদযাপন

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে। দূতালয় প্রাঙ্গনটি বর্ণাঢ্য ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে সুসজ্জিত করা হয়, যা দিবসটির গুরুত্বকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে দূতালয় প্রাঙ্গণে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান। এসময় সমবেতকণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়, যা পরিবেশকে গভীরভাবে দেশপ্রেমময় করে তোলে।

আলোচনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। তারপর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়, যা স্বাধীনতার মূল্যবোধকে পুনর্ব্যক্ত করে। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবসের উপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাইকমিশনারের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং সব বীরাঙ্গনা, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, “স্বাধীনতা বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। এরপর গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হতে হবে।”

৭১’র বীর যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান হাইকমিশনার। এসময় বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার তাগিদও দেন তিনি, যা দেশের উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

দোয়া ও মোনাজাত

আলোচনা শেষে ৭১’র সব শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, যা অনুষ্ঠানের সমাপ্তিকে আধ্যাত্মিক মাত্রা দেয়। এই উদযাপন বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।