জাতিসংঘ সভাপতিত্বের প্রচারণায় তুরাষ্ট্র-যুক্তরাষ্ট্র সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচারণা ত্বরান্বিত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন। শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি ঢাকা ত্যাগ করে প্রথমে তুরস্ক এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
তুরস্কে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যাবেন। সেখানে তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন আদায় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা
এই সফরটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফিলিস্তিন সম্প্রতি ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার পর এখন বাংলাদেশ সরাসরি সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধি করা।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দেখা করবেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার গুরুত্ব তুলে ধরবেন এবং ভোটার দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন।
সফরের প্রত্যাশিত ফলাফল
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচারণাকে নতুন গতি দেবে। তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকগুলো বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, যা এই প্রচারণায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টা দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সফল হলে এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
