নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ, মেয়র থেকে ক্ষমতায় অভাবনীয় উত্থান
নেপালে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ, মেয়র থেকে ক্ষমতায় উত্থান

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ, মেয়র থেকে ক্ষমতায় অভাবনীয় উত্থান

নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) পার্লামেন্টে মোট ১৮২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জয় বালেন্দ্র শাহকে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অভিজ্ঞ নেতাকে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি

বালেন্দ্র শাহ চারবারের অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে তার নিজের আসনে পরাজিত করেছেন। ৭৪ বছর বয়সী অলির বিরুদ্ধে এই জয় এবং কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহর এই উত্থান নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে অন্যতম নাটকীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি রাজনৈতিক বিপ্লব বলে অভিহিত করছেন।

নির্বাচনের বিস্তারিত ফলাফল

গত ৫ মার্চের নির্বাচনে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা বা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং ১১০টি আসনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ভোট হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে।

সরাসরি নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং সমানুপাতিক ভোটে আরও ৫৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে তারা শক্তিশালী 'দুই-তৃতীয়াংশ' সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে মাত্র দুই আসন দূরে রয়েছে। এই ফলাফল দলটিকে সরকার গঠনে পর্যাপ্ত শক্তি প্রদান করেছে।

অন্যান্য দলের অবস্থান

অন্যদিকে, গত পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ৩৮টি আসন। পরাজিত কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন মার্ক্সবাদীরা ২৫টি আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং মাওবাদীরা পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন। এই ফলাফল নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

কমিশনের মুখপাত্র ভট্টরাই বলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য আজ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী প্রাণঘাতী যুব বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। এই নির্বাচনকে নেপালের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বালেন্দ্র শাহর উত্থান যুব সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলে মনে করা হয়।

নেপালের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশটিতে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নেপালের ভবিষ্যৎ এখন সবার নজরে।