ডেনমার্ক ও জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শামা ওবায়েদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্ক ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতরা পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যাশা
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। প্রতিমন্ত্রীও বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক ও জার্মানির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়সমূহ
সাক্ষাৎকালে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়:
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: উভয় পক্ষ বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি: টেকসই জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
- দক্ষতা উন্নয়ন ও জনশক্তি রপ্তানি: কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সূচনা করার বিষয়েও কথা হয়, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
জাতিসংঘ প্রার্থিতা ও রোহিঙ্গা সংকট
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ডেনমার্ক ও জার্মানির সমর্থন কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অঙ্গীকার
বিদ্যমান সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে ডেনমার্ক ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতরা আগামীতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
