মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুতিনের দ্বিতীয় দফা ফোনালাপ ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুতিন-পেজেশকিয়ান দ্বিতীয় ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুতিনের দ্বিতীয় দফা ফোনালাপ ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই নেতার মধ্যে হওয়া এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ‘ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন’ এবং আঞ্চলিক সংকট নিরসনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানানো হয়।

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু

ক্রেমলিনের বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই ফোনালাপে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা পুনরায় মতবিনিময় করেছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সংকটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ক্রেমলিনের প্রেস অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন পেজেশকিয়ানের সঙ্গে প্রথমবার কথা বলেছিলেন। এ ছাড়া গত ৯ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

পটভূমি ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই হামলার সপক্ষে ইরানের সম্ভাব্য পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কথা বলা হয়েছে।

হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। পরবর্তীতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলার ঘোষণা দেয়।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পুতিন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই যোগাযোগ বজায় রাখছেন। রাশিয়ার এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট নিরসনে রাশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। পুতিনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে বলে জানা গেছে।