ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানাল
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে। গত ৯ মার্চ এক বিবৃতির মাধ্যমে এই অভিবাদন ও আনুগত্য প্রকাশ করা হয়, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশে কর্মরত সকল কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রচারিত হয়েছে।
বিবৃতিতে কোরআনের আয়াত উল্লেখ
বিবৃতিতে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা দায়িত্বশীল তাদের আনুগত্য কর।’ এই উক্তি দিয়ে নতুন নেতার প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
শহীদ নেতা ও সেনানায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার প্রতি এবং গত ১১ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের বর্বর আগ্রাসনের সময় ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত আক্রমণে শহীদ হওয়া সাহসী সেনানায়ক ও প্রিয় স্বদেশবাসীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে ইসলামি বিপ্লবের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে যোগ্যভাবে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে ও মহান ইরানি জাতিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সংবিধানিক ভিত্তি
এই নির্বাচন সংবিধানের নীতিমালা অনুযায়ী এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি, তখন বিশেষজ্ঞ পরিষদে জনগণের প্রতিনিধিদের সুস্পষ্ট রায়ে সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন এবং এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের প্রতি ইরানি জাতির সর্বাত্মক সমর্থন ইরানিদের ঐক্য, স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করবে বলে দাবি করা হয়েছে।
কূটনীতিকদের আনুগত্য ও অঙ্গীকার পুনর্নবায়ন
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশ-বিদেশে কর্মরত সকল ইরানি কূটনীতিক ইসলামি বিপ্লবের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। তারা সর্বোচ্চ নেতা ও মহান ইরানি জাতির সঙ্গে তাদের অঙ্গীকার পুনর্নবায়ন করছে, যাতে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বৈদেশিক নীতির উচ্চ লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। এই পদক্ষেপ ইরানের বৈদেশিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতিতে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
