প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএই প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে বৃহস্পতিবার এক টেলিফোন আলোচনায় ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে ইউএই প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ও উদ্বেগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেখাশোনার জন্য ইউএই প্রেসিডেন্ট ও তার দেশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রী রিম আল হাশিমি এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইউএই রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের সহায়তা ও সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রচেষ্টা
প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন যে, উভয় পক্ষই আঞ্চলিক সংঘাত প্রশস্ত হওয়া রোধ করতে এবং এর গুরুতর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রভাব মোকাবিলায় সামরিক সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উভয় নেতা সমস্যা সমাধানে আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ের গুরুত্ব নিশ্চিত করেছেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেছেন। এই আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলোচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। ইউএই প্রেসিডেন্ট এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন।
এই সফরটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
প্রেস সচিব সালেহ শিবলী আরও বলেন, ইউএই প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ফোনালাপের জন্য এবং তার দেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



