মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফর: বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বৈঠক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্র সচিব পল কাপুর বৃহস্পতিবার রাতে দুই দিনের ঢাকা সফর সমাপ্ত করেছেন। তাঁর এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্মিলিত স্বার্থ অগ্রসর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বৈঠক
সহকারী সচিব কাপুর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বুধবার বাংলাদেশের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচ্যাম) সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারসমূহ, মার্কিন ব্যবসা-বাণিজ্য শক্তিশালীকরণ এবং মার্কিন রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, সহকারী সচিব কাপুর ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন অ্যামচ্যামের সঙ্গে বৈঠক করে সদস্য কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে মতামত শুনেছেন এবং মার্কিন ব্যবসা ও রপ্তানি উন্নয়নে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
বুধবার সহকারী সচিব কাপুর ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই দিনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও তাঁদের বৈঠক হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক অগ্রসর করা এবং ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শক্তি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-মার্কিন জ্বালানি সহযোগিতা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
সহকারী সচিব কাপুর ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে "উৎপাদনশীল বৈঠক" করেছেন। একটি পাঁচ সদস্যের বিএনপি প্রতিনিধিদল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গুলশান বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জামির, মাহবুবুর রহমান, নায়াব ইউসুফ ও নিপুণ রায় চৌধুরী।
সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিদর্শন
সহকারী সচিব কাপুর ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জিয়া উদ্যান পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা স্থাপত্যকলার জন্য সুপরিচিত জাতীয় সংসদ ভবনও পরিদর্শন করেন, যা জনপ্রিয়ভাবে জাতীয় সংসদ ভবন নামে পরিচিত। মার্কিন স্থপতি লুই কানের নকশায় নির্মিত এই ভবন বাংলা সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মার্কিন উদ্ভাবনী শক্তির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যা সহযোগিতা ও স্থাপত্য শ্রেষ্ঠত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক।
সফরের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
সহকারী সচিব কাপুর মঙ্গলবার রাতে নয়াদিল্লি থেকে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন, যার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা। তাঁর আলোচনায় মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, অবৈধ অভিবাসন বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা গভীরীকরণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সফর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



