বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী
দেশের এভিয়েশন খাতের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়
উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিমান খাতের কারিগরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ওয়াশিংটনের সহায়তা কামনা করা হয়েছে। বিশেষ করে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ সময় পর্যটন শিল্পের বিকাশেও দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা তৈরির বিষয়টি উঠে আসে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়া
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমুখী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে একে অপরকে সহায়তা করার ব্যাপারে তার দেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সহযোগিতার ইতিবাচক দিক
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতার আশ্বাস বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোর সেবার মান ও নিরাপত্তা ক্যাটাগরি উন্নয়নের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে অদূর ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। এই সহযোগিতা শুধুমাত্র এভিয়েশন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বন্ধনকে মজবুত করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে এই সহযোগিতার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হতে পারে।
