বাংলাদেশ-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর দুই দিনের সফরে আগামী সোমবার ঢাকায় আসছেন। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। মার্কিন মিশনের মুখপাত্র পুরনিমা রাই সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সফরের মূল আলোচ্য বিষয়
সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর তার সফরে বাংলাদেশের নতুন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ স্বার্থ অগ্রসর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
পুরনিমা রাই তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "যুক্তরাষ্ট্র নতুন নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করে অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে আগ্রহী।" এই সফরটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের গতিশীলতাকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পল কাপুরের পদবি ও সাম্প্রতিক কার্যক্রম
পল কাপুর গত ২২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সফরের আগে তিনি ১-৩ মার্চ পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের যৌথ অগ্রাধিকার নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন।
তার এই সফরটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃঢ় ও পারস্পরিক উপকারী মার্কিন-ভারত অংশীদারিত্বের রূপরেখা বাস্তবায়নের সাম্প্রতিক গতিবেগের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের বার্তা ও প্রত্যাশা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আশা প্রকাশ করেছেন। গত মাসে তারিক রহমানের কাছে প্রেরিত এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী রুটিন প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন।
এই চুক্তিগুলো সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী উচ্চমানের মার্কিন-নির্মিত সরঞ্জাম ব্যবহার করতে সক্ষম হবে, যা তিনি বিশ্বের সেরা বলে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, "আমি আপনার সাথে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী।"
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যে এই অংশীদারিত্ব পারস্পরিক সম্মান এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার যৌথ স্বার্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেখানে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনার দায়িত্ব শুরু হওয়ার সাথে সাথে আমি আশা করি আপনি আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কের অসাধারণ গতিশীলতা বজায় রাখতে আমাকে সহায়তা করবেন, যা আমাদের দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে বাংলাদেশে নিযুক্ত তার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের উপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। "একসাথে কাজ করে আমরা আমাদের দুই দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করতে পারি," তিনি মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই চিঠিটি প্রকাশ করেছে।
পল কাপুরের এই সফরটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে।



