কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের হামলা মেনে নেওয়া যায় না: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সোমবার (২ মার্চ) কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। এই ফোনালাপে তিনি কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে কোনও অজুহাতেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
ড. খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরানের এই হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব, আকাশসীমা এবং আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের হামলা কোনও অজুহাতে মেনে নেওয়া যায় না।" এই হামলাকে তিনি ভালো প্রতিবেশীত্বের নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা প্রভাব
ফোনালাপে উভয় পক্ষ এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনাগুলো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর এর গুরুতর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সব বিরোধ সমাধানের উপায় পর্যালোচনা করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এটি জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনও অজুহাতে মেনে নেওয়া যায় না।"
কাতারের শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা ও হুমকি
কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কাতার ধারাবাহিকভাবে আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছে এবং ইরান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ সহজতর করার জন্য কাজ করেছে। তার ভূখণ্ডকে নতুন করে লক্ষ্যবস্তু করা ভালো উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে না এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তির ওপর বোঝাপড়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
সংলাপ ও উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান
তিনি অবিলম্বে সব ধরনের উত্তেজনা বন্ধ করা, সংলাপে ফিরে আসা, যুক্তি ও প্রজ্ঞার প্রাধান্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সংকট নিয়ন্ত্রণে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এই আলোচনায় উভয় পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
