জেদ্দায় ওআইসি সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: অভিনন্দন ও সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনা
জেদ্দায় ওআইসি সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

জেদ্দায় ওআইসি সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ফিলিস্তিন বিষয়ক কার্যনির্বাহী সভার সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক পরিচালনা করেছেন। এসব বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অটল অবস্থানের প্রশংসা করা এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সুযোগ খুঁজে বের করা।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা

বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. আলখারেইজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আঘাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি। উল্লেখ্য, সেরিং মোদু এনজি এই নির্বাহী সভার সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থনের প্রশংসা করা হয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মানবিক অবস্থানকে তুলে ধরে। এছাড়া, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ মন্তব্য

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার গত বছরের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আগ্রহী এবং ঢাকায় আসতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকার নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকের সার্বিক তাৎপর্য

এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা এবং নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে। এসব আলোচনা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।