জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান। তিনি বলেছেন, “গত ১৮ মাসের যে সরকারটি (অন্তর্বর্তী) ছিল তা মূলত আজকের বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ তথা জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত সরকার হিসেবে কাজ করেছে। সেই সময়ে যারা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকে বিশেষ সুবিধা বা আরামে ছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা না থাকাতেই তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ও অস্বস্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে।”
বিরোধী জোটের উদ্দেশে বক্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিন রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিরোধী জোটের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ছাত্র আন্দোলনের নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে রাজীব হাসান বলেন, “আগে যারা যখন খুশি প্রধান উপদেষ্টার বেডরুম কিংবা সচিবের রুমে ঢুকে যেতেন। এখন সেই অনৈতিক সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতারা সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা প্রদর্শন করছেন।”
শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
প্রতিমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে কীভাবে এক হাজার ২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন। একে তিনি ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যেমন ব্যবসা চলেছে, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনও ব্যবসা এই প্রজন্ম সহ্য করবে না। অবিলম্বে সকল শহীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।”
বাক-স্বাধীনতা ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে
বাক-স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রাজীব হাসান বলেন, “সরকারের সমালোচনা বা কার্টুন করায় বাধা নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে অশালীন বক্তব্য ও ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা দুঃখজনক। যারা সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে নোংরা অপপ্রচার চালিয়েছে, বিরোধী দল তাদেরই পুরস্কৃত করে সংসদ সদস্য হিসেবে পাঠিয়েছে।”
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
বিরোধী দলকে অতীতের আরাম আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে সরকারি দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান
এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী তার নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানান। এরপর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন এবং সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম যুক্ত করেছিলেন। এমনকি, শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার সুযোগ এবং জামায়াত নেতা গোলাম আজমকে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের সুযোগও তিনিই করে দিয়েছিলেন।”



