ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব যাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আরও দুইজন কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, মন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানের এটি প্রথম বিদেশ সফর, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বৈঠকের উদ্দেশ্য ও আলোচ্য বিষয়
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ওআইসির সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে ইসরায়েলি অবৈধ দখলদারত্বের অবসান কীভাবে ঘটানো যায়, তা নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
কূটনৈতিক কার্যক্রম ও সম্ভাব্য আলোচনা
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ওআইসির জরুরি অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংস্থার সদস্য একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে পারেন। এই আলোচনাগুলো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। সৌদি সফর শেষে আগামী শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে, যা এই মিশনের সময়সীমা নির্দেশ করে।
বৈঠকের পটভূমি ও ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অবৈধভাবে দখলের পর ইসরায়েল সরকার সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। বসতি স্থাপনের পাশাপাশি এই এলাকাকে ইসরায়েলের সার্বভৌম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসির এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতিফলন।
ওআইসির উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ওআইসি মনে করছে, ইসরায়েলের এই অবৈধ সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনি, রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত অবস্থার নেতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এই পরিবর্তন ফিলিস্তিন সমস্যার দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখা হতে পারে এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ নির্ধারণে আলোচনা চলবে।
সামগ্রিকভাবে, এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট মোকাবিলায় ওআইসির সক্রিয় ভূমিকা এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
