কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভারত সফর: বাণিজ্য দ্বিগুণ ও সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সপ্তাহে ভারত সফর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করা এবং 'ভাঙা সম্পর্ক' স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কার্নির এটি প্রথম সফর হতে যাচ্ছে, যা কানাডার বৈশ্বিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
সফরের সময়সূচি ও বৈঠক
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মার্ক কার্নি দিল্লিতে পা রাখবেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই সফরে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার উপর জোর দেওয়া হবে। ভারত সফরের পর কার্নি অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানেও যাবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও কানাডার কৌশল
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতে যাচ্ছেন মার্ক কার্নি। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার পরও পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশা করা উচিত নয়। ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখে, কার্নি প্রধান এশীয় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে আগে থেকে দুর্বল সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
গত মাসে, তিনি কয়েক বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বেইজিং সফর করেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি কানাডার নতুন কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ, যা অনিশ্চিত বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।
ভারত-কানাডা সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল, যেখানে ট্রুডোর ভারত-বিদ্বেষী মনোভাবের প্রমাণ বারবার মিলেছে। তবে, ট্রুডোর উত্তরসূরি মার্ক কার্নি সেই পথে হাঁটতে নারাজ এবং দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে উদ্যোগী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবহে তার ভারত সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, 'একটি অনিশ্চিত বিশ্বের মধ্যে কানাডা সেই বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিচ্ছে যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা বিদেশে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি যাতে দেশের বেশি স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।'
এই সফরটি কানাডার বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করার এবং এশীয় অঞ্চলে তার প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
