শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন
শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি পর্যটকদের হোটেল বুকিংয়ে জারি করা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্থানীয় হোটেল মালিকদের সংগঠন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) 'গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' এই ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, মূলত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক ইতিবাচক কূটনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পটভূমি ও প্রত্যাহারের কারণ

২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য শিলিগুড়ির হোটেলগুলোতে আবাসন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বার্তা সংস্থা এএনআই-কে জানান, সেই সময় বাংলাদেশের কিছু নেতার উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার মতো ঘটনার প্রতিবাদে তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় তারা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হওয়া এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিত থাকা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া উভয় দেশের সরকার সীমান্ত ভ্রমণে বিধিনিষেধ শিথিল করায় এবং ভিসার প্রক্রিয়া পুনরায় সহজ হওয়ায় পর্যটকদের জন্য হোটেলের দুয়ার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৫০টি হোটেল এই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকবে।

ভবিষ্যতের সতর্কতা ও নির্দেশনা

নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোটেল মালিকদের এই সংগঠন। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি আবারও ভারতের জাতীয় পতাকা বা দেশের প্রতি কোনো ধরনের অবমাননাকর ঘটনা ঘটে, তবে তারা পুনরায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। বর্তমানে সব সদস্য হোটেলকে আইনি ও নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলে বাংলাদেশি অতিথিদের সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তটি দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শিলিগুড়ির হোটেল শিল্পে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।