যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের জোরালো দাবি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে সংগঠনটি এই দাবি উত্থাপন করেছে। বিবৃতিতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
চুক্তির মাধ্যমে দেশের পরাধীনতা আইনসিদ্ধ হয়েছে: ফয়জুল হাকিম
ফয়জুল হাকিমের অভিযোগ, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব করা হয়েছে এবং দেশের পরাধীনতাকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, গত জুলাই মাসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের পর জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের এই চুক্তি সেই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তাঁর ভাষ্যমতে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কার্যত তাদের ভূরাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে শৃঙ্খলিত করে ফেলেছে। এটি দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমিত করেছে এবং বৈদেশিক নীতিতে হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করেছে।
বিএনপি সরকারকে চুক্তি বাতিলের আহ্বান
বিবৃতিতে অবিলম্বে চুক্তিটি বাতিলের জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী এই চুক্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি সম্পাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করার এবং তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, এই চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং তা জনগণের মতামত ছাড়াই গোপনে সম্পন্ন হয়েছে।
গণতান্ত্রিক শক্তিকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতের টেকসই বিকাশের স্বার্থে এই চুক্তি বাতিলে সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে সক্রিয় ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সংগঠনটি মনে করে, এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের সময় জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত এবং কোনোভাবেই বৈদেশিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের এই বিবৃতি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
