বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের অভিনন্দন, নবনির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার
বিএনপির জয়ে চীন-ভারত-পাকিস্তানের অভিনন্দন, নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক জোরদার

বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ে এশিয়ার তিন দেশের অভিনন্দন ও সহযোগিতার অঙ্গীকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নবনির্বাচিত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে এশিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ চীন, ভারত ও পাকিস্তান। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে তিন দেশের রাষ্ট্রদূতরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং এই নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম 'অবাধ ও সুষ্ঠু' নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় ড. খলিলুর রহমানকেও অভিনন্দন জানান তারা।

চীনের পূর্ণ সমর্থন ও 'বাংলাদেশ প্রথম' নীতির প্রতি অঙ্গীকার

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত 'বাংলাদেশ প্রথম' নীতির প্রতি চীনের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করতে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ-চীন 'কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ' এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে চীনের জোরালো ভূমিকা আহ্বান করেন। রাষ্ট্রদূত ওয়েন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. খলিলুর রহমানকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

ভারতের প্রস্তুতি ও দূরদর্শী অংশীদারত্বের আহ্বান

ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রস্তুতির কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি দূরদর্শী ও সুষম অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষই নিয়মিত ও গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। রাষ্ট্রদূত ভার্মা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পক্ষ থেকে ড. রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করবে।

পাকিস্তানের গভীর আগ্রহ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে নতুন সরকারের সাথে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। ড. খলিলুর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জনগণের কল্যাণে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদূতরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। এই সাক্ষাতগুলো নবনির্বাচিত সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।