সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসারে আগ্রহী বাংলাদেশ, কর্মভিসা ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহ, কর্মভিসা আলোচনা

সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসারে আগ্রহী বাংলাদেশ, কর্মভিসা ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সমন্বিত রূপ দিয়ে আরও প্রসারিত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। আজ রোববার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ এই আগ্রহের কথা জানান। দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার অঙ্গীকার

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং সৌদি আরব–বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বিদ্যমান সম্পর্ককে সমন্বিত ও বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সৌদি আরবকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবে এক ঐতিহাসিক সফর করেন, যা মুসলিম ঐক্য জোরদারে তাঁর অবদান হিসেবে স্বীকৃত।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা

সৌদি রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার কর্মভিসা এবং সর্বমোট চৌদ্দ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেখানে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উভয় দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা ও প্রশংসা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৯ সালে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন সহজতর করতে সৌদি আরবের প্রদান করা সহায়তার কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বারো লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সমর্থন চান।

মধ্যপ্রাচ্য ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকারও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার

দিনের শুরুতে সৌদি রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে সৌদি যুবরাজের নেতৃত্বে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই আলোচনাগুলো দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়।