বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের জীবনাবসান
ঢাকার সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক খ্যাতিমান কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলাম মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক চলতি বছরেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা সফর করেছিলেন।
মৃত্যুর খবর নিশ্চিতকরণ
উইলিয়াম মাইলামের মৃত্যুর খবরটি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার সাবেক সহকর্মী ও মার্কিন কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচ। এছাড়া মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও মাইলামের প্রয়াণে শোক জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। মাইলামের মেয়ে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এরিকা মাইলামের ইমেইলের বরাত দিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী তার মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য জানান।
কূটনৈতিক জীবন ও অবদান
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মাইলামের ছিল গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। ১৯৬২ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়া এই পেশাদার কূটনীতিক ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এরশাদ সরকারের পতনের সময়কালে ঢাকায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। কূটনৈতিক জীবন শেষে অবসরে যাওয়ার পরও তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরতেন।
সাম্প্রতিক ঢাকা সফর
চলতি বছরের মার্চ মাসেও মাইলাম ঢাকা সফর করেন। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একাধিক আলোচনা সভায় অংশ নেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের এক অভিজ্ঞ ও পরিচিত কূটনীতিকের জীবনাবসান হলো।
শোকবার্তা ও প্রতিক্রিয়া
জন এফ ড্যানিলোভিচ তার শোকবার্তায় বলেন, মাইলামের সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক। তিনি উল্লেখ করেন যে মাইলামের দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গভীর বোঝাপড়া ছিল, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান রেখেছে। এছাড়া, বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার প্রতি দেশটির মানুষের শ্রদ্ধার প্রতিফলন।
উইলিয়াম মাইলামের জীবন ও কর্ম দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তার মৃত্যু শুধু মার্কিন কূটনৈতিক মহলেই নয়, বাংলাদেশের জন্যও একটি বড় ক্ষতি বলে মনে করা হচ্ছে।
