জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্র নীতিতে ফেরত যাচ্ছি: নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্র নীতিতে ফেরত যাচ্ছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্র নীতিতে ফেরত যাচ্ছি: নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্র নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পরস্পরের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, নন-ইন্টারফিয়ারেন্স, কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, ন্যাশনাল ডিগনিটি, জাতীয় সম্মান-মর্যাদা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার বৈঠক করেন। ড. খলিলুর বলেন, "আমরা পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডে আমাদের জাতীয় স্বার্থ পই পই করে বুঝে নেবো। এক হিসেবে আমরা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ফরেন পলিসিতে ফেরত যাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারে আমরা সেটাই চেষ্টা করেছি।"

জিয়াউর রহমানের তিন সাহসী পদক্ষেপ

ড. খলিলুর রহমান জিয়াউর রহমানের তিনটি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন:

  1. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ: ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার চার বছরের মধ্যে জিয়াউর রহমান নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং জাপানের মতো শক্তিকে পরাজিত করে জয়ী হন।
  2. সার্ক প্রতিষ্ঠা: সবচেয়ে আনকানেক্টেড অঞ্চলে কানেক্টিভিটির কথা বলে সার্ক প্রতিষ্ঠার বড় কাজগুলো তিনি করে গেছেন।
  3. আলকুদস কমিটি: আঞ্চলিক শান্তি ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, "আমাদের ফরেন পলিসি শুধু ইতিবাচকই না, অনেক বিস্তৃত ছিল, আমরা সেই জায়গায় ফেরত যেতে চাই। বাংলাদেশ নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারে, আমরা সেটা করতে চাই।"

রোহিঙ্গা ইস্যু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চান, জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে। রোহিঙ্গা বিষয়ে তিনি বলেন, "রোহিঙ্গা বিষয়ে আমাদের যে নজরটা ছিল, সেটি কোনোভাবে কমবে না, বরং বাড়বে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং সর্বপ্রথম আমরা আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেই যোগাযোগগুলো অব্যাহত থাকবে, এই সমস্যার আমরা একটা আশু সমাধানের চেষ্টা করবো এবং আমি এ বিষয়ে আশাবাদী।"

কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট প্রশ্নের জবাব

নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে এই সরকারের মন্ত্রী বিষয়ে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের প্রশ্নে তিনি বলেন, "তার মানে গণনা ঠিক হয়নি তাইতো! এটা বলছে, তো গুনে নেন আরেকবার, মুশকিল নাই। আমি তো জোর করে যাইনি।"

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, দায়িত্বটা চ্যালেঞ্জিং ও ইন্টারেস্টিং। তিনি বলেন, "আমাদের ফরেন পলিসি, আমাদের ফরেন মিনিস্টার যেটা বলেছেন, বিএনপির লক্ষ্য হলো, আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখবো। আমাদের ফরেন পলিসি ফর চেঞ্জ আফটার সেভেন্টিন ইয়ারস, এটা আমাদের জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।"

এই ঘোষণার মাধ্যমে নতুন সরকার জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্র নীতির দিকে ফিরে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করতে পারে।