উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা উত্তরাধিকার নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা: কিম জু এ নাকি বোন কিম ইয়ো জং?
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা উত্তরাধিকার নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা উত্তরাধিকার নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা: কিম জু এ নাকি বোন কিম ইয়ো জং?

উত্তর কোরিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি কিম জং উনের উত্তরাধিকারী নিয়ে জল্পনা নতুন কিছু নয়, কিন্তু সম্প্রতি এই আলোচনা জোরালো হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিমের সঙ্গে তার ১৩ বছরের মেয়ে কিম জু এ-কে দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) দাবি করেছে, কিম জং উন তার মেয়ের হাতেই উত্তর কোরিয়ার শাসনভার তুলে দিতে চাইছেন।

বোন কিম ইয়ো জং-এর সম্ভাব্য বাধা

তবে এই পথে বড় বাধা আসতে পারে কিমের পরিবার থেকেই। কিমের ৩৮ বছর বয়সী বোন কিম ইয়ো জংকে বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনআইএস। কিম ইয়ো জং সরকারের শীর্ষ পদে রয়েছেন এবং দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে তার প্রভাব অপরিসীম। বিশেষ করে, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে তার শক্ত অবস্থান তাকে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।

এ কারণে বিশেষজ্ঞদের একাংশের শঙ্কা, সহজে কিম জু এ-এর হাতে শাসনভার তুলে দিতে দেবেন না কিমের বোন। তিনি নিজে কিমের উত্তরসূরি হিসেবে উত্তর কোরিয়ার দায়িত্ব নিতে চাইতে পারেন এবং সুযোগ পেলেই তার সদ্ব্যবহার করবেন। ফলে উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে কিমের পরিবার আসন্ন সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সম্মেলন ও পর্যবেক্ষণ

চলতি মাসেই কিম জং উন উত্তর কোরিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে এই সম্মেলন থেকেই একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন কিম। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা এই সম্মেলন এবং দেশটির পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে। কিম সেখানে তার কন্যাকে নিয়ে আসেন কিনা, তা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

কিম জু এ-এর প্রকাশ্য উপস্থিতি

২০২২ সালের নভেম্বরে উত্তর কোরিয়ার একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে কিম জু এ-কে প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখা যায়। এরপর থেকে একাধিক রাজনৈতিক এবং সামরিক অনুষ্ঠানে কিম জু এ তার বাবাকে সঙ্গ দিয়েছে। এমনকি, গত সেপ্টেম্বরে কন্যাকে নিয়ে কিম চীনেও গিয়েছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, কন্যার রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝাতেই তাকে পাশে রাখছেন কিম।

চীনের প্রভাব ও পারিবারিক টানাপোড়েন

অনেকের ধারণা, কিমের কন্যাকে উত্তরসূরি করার ক্ষেত্রে চীনের প্রভাব রয়েছে। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত, কিমের বোন কিম ইয়ো জং এতে বাধা দেবেন। কেননা কিমের ওপর তার প্রভাবও কম নয়। ফলে এখান থেকে বড়সড় কোনো পারিবারিক সংঘাত তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কিমের বোন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যা তার ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কিম জং উনের পরিকল্পনা এবং তার বোনের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। উত্তরাধিকার সংক্রান্ত এই দ্বন্দ্ব উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।