শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্ত
শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হলেন সুব্রত গুপ্ত

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা সুব্রত গুপ্ত। শনিবার তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই।

সুব্রত গুপ্তের পূর্ব অভিজ্ঞতা

সুব্রত গুপ্তকে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ভারতীয় প্রশাসনিক সেবায় কর্মরত ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ

শনিবার সকালেই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে এই জয় পায় বিজেপি। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে, আর তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। নির্বাচনের পাঁচ দিন পর আজ এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা হয়েছিল, তা নিয়ে রাজ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রথমে প্রায় ৬১ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রায় ৬০ লাখ ‘সন্দেহজনক ও অমীমাংসিত’ আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

ভোটার বাদ দেওয়ার পরিমাণ

গত ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১.৯ শতাংশ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে লাখ লাখ মামলা বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলার সঠিক সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গসহ মোট আটটি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হলেও কেবল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন যৌক্তিক অসংগতির মানদণ্ড চালু করেছিল। মা-বাবার নামের অমিল, মা-বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান কম হওয়া কিংবা কোনো দম্পতির সন্তান সংখ্যা ছয়ের বেশি হওয়াকে এই অসংগতির আওতায় রাখা হয়েছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ

তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই এই সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছিল। দলটির অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।