ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র— উভয় পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের ‘যুদ্ধজয়ী’ ভাবার মানসিকতা আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। খবর আল-জাজিরা।
উভয় পক্ষের জয়ী মনোভাব
সিনা আজোদি বলেন, “ইরানি এবং আমেরিকান— উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে এই ধারণা নিয়ে আসছে যে, তারা সবেমাত্র যুদ্ধে জিতেছে। ফলে কোনও পক্ষই একে অপরের কাছে খুব একটা নতি স্বীকার বা ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছে না।”
ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তেহরান এই সংঘাতে অনেক বড় ধাক্কা খেয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য ছিল টিকে থাকা। সেই টিকে থাকার লড়াইয়ে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে এবং এটিকেই তারা বিজয় হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
অপরদিকে ওয়াশিংটনের মনেও একই ধরনের জয়ী মনোভাব কাজ করছে। বিশেষ করে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে কঠোর বক্তব্য, তা থেকেই স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের এই লড়াইয়ের জয়ী পক্ষ মনে করে।
চুক্তির সম্ভাবনা
আলোচনাকে ফলপ্রসূ করার উপায় সম্পর্কে আজোদি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি যদি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতার বিষয়টি সমাধান করা যায় এবং দুই পক্ষেরই সম্মত হওয়া একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা সম্ভব হয়, তবে বড় ধরনের কোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।”



