'বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬'-এর শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রকাশক ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। তিনি স্বীকার করেন যে তার কারণে তার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।
ব্যবসার স্বার্থই প্রথম
এ কে আজাদ বলেন, 'আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৭৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করে। তাদের স্বার্থটা আমাকে আগে দেখতে হয়। তারপরে সৎ সাংবাদিকতা, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, গণতন্ত্র—এগুলো আমার কাছে সেকেন্ডারি। ফান্ডামেন্টাল হলো এদের প্রটেকশন দেওয়াটা।'
চাপের মুখে সাংবাদিকতা
তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য দীর্ঘ সময় ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন। কোনো দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে হয়, আর তখন থেকেই চাপ শুরু হয়। 'যার বিরুদ্ধে সংবাদ হবে, প্রথম ফোনটাই আসে আমার কাছে; যেন কোনোভাবেই সংবাদটি প্রকাশ না করা হয়।'
সরকারি ও গোয়েন্দা চাপ
এ কে আজাদের অভিযোগ, সরাসরি চাপ দিয়ে কাজ না হলে প্রভাবশালী মহল, গোয়েন্দা সংস্থা বা সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হয়।
উত্তরণের উপায়
এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, 'যদি আপনারা আমাকে প্রটেকশন দিতে পারেন যে আমি ব্যবসায়িকভাবে কোনো হয়রানির শিকার হব না, আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে না, আমার কলকারখানা চালাতে বাধাগ্রস্ত করা হবে না—এই নিশ্চয়তা পেলে আমি তো আর আপনাদের গলা টিপে ধরব না, সাংবাদিকদের হাত চেপে ধরব না।'
সেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আইন বিশেষজ্ঞ জন বারাটা এবং প্রথম আলোর ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবির। সেশনটি পরিচালনা করেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শাকিল আনোয়ার।



