গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ বাড়িতে এক পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পলাতক রয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান।’
আর্থিক বিষয়ে সন্দেহ
তিনি আরও বলেন, ‘মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
শেষ মুহূর্তের ঘটনা
শাহীন মোল্লা বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, “তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, “সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই।” ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।’



