ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর ধান ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের মোকলেছ উদ্দিনের ছেলে স্বাধীন (১৮) এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
হত্যার পদ্ধতি
ঝিনুকের খোসা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় দুলাল মিয়াকে। হত্যার পর পরিস্থিতিটা খুবই শান্তভাবে সামাল দিয়েছে স্বাধীন। পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ঘটনা তদন্ত করেছে কিন্তু কোনো প্রকার ক্লু ছিল না। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে স্বাধীনকে ঘটনার দিনই আটক করা হয়। থানায় জিজ্ঞাসাবাদেও স্বাধীন মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে ঠাণ্ডা মাথায় ঘটনা অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করেছে।
আদালতে স্বীকারোক্তি
অবশেষে বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে স্বাধীন। পুলিশ জানায়, দুলাল মিয়ার পাওনা ২০ হাজার টাকার চাপে ক্ষিপ্ত ছিল স্বাধীন। ঘটনার দিন স্বাধীনকে বারবার ফোন দিচ্ছিলেন দুলাল মিয়া। তাকে না পেয়ে তার মায়ের ফোনে ৬৪ বার কথা বলে দুলাল মিয়া। রাত আনুমানিক ৮ থেকে সাড়ে ৮টায় স্বাধীনের বাড়িতে যায় দুলাল মিয়া। সেখান থেকে বের হয়ে স্বাধীন এবং দুলাল মিয়া বাড়ির সামনে মোড়ে চায়ের দোকানে বসে।
পরে দুলাল মিয়ার বাড়ির পাশে একটি নির্জন পুকুরের পাড়ে যায় তারা। সেখানে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর স্বাধীন বাড়িতে এসে দেখে সঙ্গে মানিব্যাগটা রয়ে গেছে পরে পুনরায় স্বাধীন ঘটনাস্থলে গিয়ে মানিব্যাগ নিয়ে আসে। আসার সময় ভুলক্রমে নিজের শার্টের সঙ্গে দুলাল মিয়ার শার্ট নিয়ে আসে যা স্বাধীনের বাড়ির কাছে একটি গাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এই শার্টটি রহস্য উদঘাটনে সবচেয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে।
তদন্তে পুলিশের ভূমিকা
এ হত্যার রহস্য উদঘাটনে দিনরাত কাজ করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, এএসপি আশিষ বিশ্বাস, ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম।
পুলিশের বক্তব্য
এ ব্যাপারে ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এ হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ছেলে কিভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।



