আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক ফারজানা রুপা প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন। শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে হাজির করতে বলা হয়েছে। ১৪ মে তাঁদের এই ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ আদেশ দেন।
পরে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, দিবসটি (শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস) পালন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ও বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁরা কিছু নতুন তথ্য পেয়েছেন। যেমন একাত্তর টেলিভিশনের ফারজানা রুপা সমীকরণ নামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করেছেন। সেখানে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। সেখানে বিবিসির সাংবাদিকের একটা বক্তব্য পেয়েছেন। সেখানে কোনো একজন সাংবাদিক বলছিলেন যে তিনি সরেজমিনে দেখেছেন, ছবি তুলেছেন, কিন্তু কোনো হতাহতের ঘটনা দেখেননি। এ রকম কিছু উদ্ভট, ভিত্তিহীন, মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ফরজানা রুপার সমীকরণ নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখে মনে হয়েছে, ঘটনার পরপর কিছু বিতর্কিত মানুষের বক্তব্য নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে সারা দুনিয়াতে প্রচার করা হলো, যার একেবারেই কোনো সত্যতা ছিল না। এর মধ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা তিনি আড়াল করলেন।
আগামী ৭ জুন এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দিন ধার্য আছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ এ মামলার আসামি।
২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই ৫৮ জনের পরিচয় তাঁরা শনাক্ত করতে পেরেছেন।



