তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সংকট: টিভিকের ১০৮ বিধায়কের পদত্যাগের হুমকি
টিভিকের ১০৮ বিধায়কের পদত্যাগের হুমকি তামিলনাড়ুতে

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ডিএমকে বা এআইএডিএমকে যদি অনৈতিকভাবে সরকার গঠনের চেষ্টা করে, তবে টিভিকের ১০৮ জন বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে এই কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

নির্বাচনে ফলাফল ও সরকার গঠনের জটিলতা

২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসনের প্রয়োজন। এবারের নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজয়ের দল টিভিকে। অন্যদিকে ডিএমকে ৫৯টি আসন জিতেছে এবং এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি।

বিজয়ের দাবি ও রাজ্যপালের অবস্থান

বিজয় নিজে পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লী (পূর্ব)—এই দুটি আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যপাল আর. ভি. আরলেকার বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। রাজভবনের যুক্তি, বিজয় প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি। অন্যদিকে, বিজয় সরকার গঠনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করলেও রাজ্যপাল তা গ্রহণ করেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমর্থন সংগ্রহে বিজয়ের প্রচেষ্টা

বিজয় বর্তমানে কংগ্রেসের (৫ জন বিধায়ক) সমর্থন পেয়েছেন এবং বামপন্থী দল ও অন্যান্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ করতে তার আরও ১০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।

টিভিকের সন্দেহ ও ডিএমকের কড়া নির্দেশ

টিভিকে নেতৃত্ব সন্দেহ করছে যে, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে জোট বেঁধে তাদেরকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করছে। ডিএমকে ইতোমধ্যে তাদের বিধায়কদের ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে এবং দলটির প্রধান এম কে স্ট্যালিনকে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ

রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিআই। তারা সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক 'এস আর বোম্মাই মামলা'-র উদাহরণ টেনে বলেছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়কেই প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। টিভিকে সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপালের এই অসাংবিধানিক অবস্থানের বিরুদ্ধে তারা খুব শীঘ্রই আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।