পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ। তিনি লোকভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় সাংবিধানিকভাবে তার সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপর কী হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা

বিজেপি নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার অবস্থানে অনড় থাকলে আগামীকাল ৮ মে শুক্রবার, অর্থাৎ নতুন রাজ্য সরকার শপথ গ্রহণের আগের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমীভাবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে বলে মত দিয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞরা। প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে আইন বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এর আগে ভারতের কোথাও এমন কোনো ঘটনার নজির নেই।

সাংবিধানিক রীতি

ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফল ঘোষণার সময় শাসকদল তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটি একটি সাংবিধানিক সৌজন্য প্রকাশ। রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগে তিনিই কাজ চালান। কিন্তু কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি প্রচলিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তামিলনাড়ুর সঙ্গে তুলনা

তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ ফুরিয়েছে বুধবারই। সেখানেও নতুন সরকার এখনো শপথ নেয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তামিলনাড়ুর ফারাক আছে। কারণ, পরাজয়ের পর স্ট্যালিন এবং তার সরকার পদত্যাগ করেছেন। রাজ্যপাল স্ট্যালিনকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে সেটা হচ্ছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবিধানের শর্ত

সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালের ‘সদিচ্ছায়’ একটি রাজ্য সরকার গঠিত হয়। আইন অনুযায়ী আজ ৭ মে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ভারতীয় সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর এক মুহূর্তও বিদায়ী সরকার থাকতে পারে না। ফলে, মমতা পদত্যাগ না করলে আজ রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারিভাবে কবে শপথ নিতে চান, তাও জানবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ৯ মে শপথ নেবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি।