ত্রয়োদশ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ নাকচ ইইউর
ত্রয়োদশ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ নাকচ ইইউর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

ইইউর চূড়ান্ত প্রতিবেদন

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইইউ পর্যবেক্ষকরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কার্যকর ভূমিকায় ভোটগ্রহণ স্বচ্ছ হয়েছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা সঠিক নয়।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘ভোটের কাস্টিং খুব ভালো ছিল। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও প্রশংসনীয়। আগামী সংসদ নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৯টি সুপারিশ

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে মোট ১৯টি সুপারিশ করেছে ইইউ। এর মধ্যে ছয়টি সুপারিশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ডিজিটাল মাধ্যমে নারী হয়রানি রোধ
  • এক তৃতীয়াংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
  • প্রার্থীদের খরচের হিসাব-নিকাশের অডিট
  • প্রতিবন্ধীদের জন্য ভোটকেন্দ্রে সুবিধা বৃদ্ধি

এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থিতার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষক দল

গত বছরের শেষ দিক থেকে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নির্বাচনের দিন ইইউ সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ৫৬ জন এবং স্বল্পমেয়াদি ৯০ জন পর্যবেক্ষক ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচনের ফলাফল

১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলে আসীন হয়। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। নির্বাচন নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন তুললেও ইইউ তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা নাকচ করেছে।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ইইউ মিশন। এবারের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে সুপারিশ ও প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়েছে।