ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিন পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াত এবং পচনশীল পণ্য পরিবহনের অনুমতি রয়েছে। ফলে ভারত যেতে না পেরে বেনাপোল বন্দরে আটকা পড়েছেন তিন শতাধিক পাসপোর্টধারী।
ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে ভোগান্তি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। এদিকে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের কারণে বাণিজ্য ও ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। সোমবার সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক পাসপোর্টধারী মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন, কারো চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।
আটকে পড়া পাসপোর্টধারীরা জানান, ভারতের নির্বাচনের কারণে মুমূর্ষু রোগী ছাড়া অন্য পাসপোর্টধারীরা ভ্রমণ করতে পারছেন না। তাদের মতে, নিরাপত্তা জোরদার করা স্বাভাবিক বিষয়, তবে এমন সিদ্ধান্তের আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলে সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তেন না।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, পেট্রাপোল বন্দর থেকে শুধুমাত্র পচনশীল জাতীয় খাদ্যদ্রব্য আমদানি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্য প্রবেশ করছে না। টানা তিনদিন সাধারণ পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বেনাপোল বন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ সাইম আলম জানান, ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দরে অনেক পাসপোর্টধারী আটকা পড়েছে। শুধুমাত্র মুমূর্ষু রোগীরা যাতায়াত করতে পারছেন। আটকে পড়া পাসপোর্টধারীদের মধ্যে মেডিকেল ভিসা, বিজনেস ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসার পাসপোর্টধারীরা রয়েছেন।
ভ্রমণ ও বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণে স্থলপথে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেন। সাধারণত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিতেও সপ্তাহে সাত দিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ থাকে। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার কারণে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ ও বাণিজ্য সংক্ষিপ্ত করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।



