ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার আঞ্চলিক কূটনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা নিশ্চিত করেছে যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিতি
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পূর্ণতা দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
ফিলিস্তিন ও লেবানন ইস্যু
ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ইসলামাবাদের বিশেষ প্রচেষ্টার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ম্যারাথন আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান বর্তমানে দ্বিতীয় দফার মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক
শুক্রবার (২৪ মার্চ) ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর আরাগচি পাকিস্তানি নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে বৈঠক করেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জেনারেল মুনিরের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন আরাগচি।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি জানান, যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, একটি স্থায়ী এবং কার্যকর ফলাফলে না পৌঁছানো পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
মূলত ইসলামাবাদ এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। সূত্র: সিএনএন।



