ইরাকি নেতার তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ডলার পুরস্কার
ইরাকি নেতার তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ডলার পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতিব সায়্যিদ আল-সুহাদার (কেএসএস) শীর্ষ নেতার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা কেএসএস নেতা হাশিম ফিনিয়ান রহিম আল-সারাজি—যিনি আবু আলা আল-ওয়ালাই নামেও পরিচিত—তার সম্পর্কে তথ্য খুঁজছে। ওয়াশিংটন এই গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কেএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মার্কিন কর্মকর্তারা এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করেন, কেএসএস ‘ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে এবং ইরাকে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করেছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুরস্কার ও পুনর্বাসনের প্রস্তাব

পোস্টে আরও বলা হয়, আল-সারাজির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে পুরস্কারের পাশাপাশি তথ্যদাতাকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের সুযোগও দেওয়া হতে পারে।

আল-সারাজির রাজনৈতিক অবস্থান

আল-সারাজি ইরাকের ক্ষমতাসীন শিয়া জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর সদস্য, যা দেশটির পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা

ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস, বাগদাদ বিমানবন্দরের কূটনৈতিক ও লজিস্টিক স্থাপনা এবং বিদেশি কোম্পানি পরিচালিত তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে।

ইরাকে নতুন অস্থিরতা

দীর্ঘদিনের সংঘাত কাটিয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়া ইরাক সম্প্রতি নতুন করে অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অস্থিরতা শুরু হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী পুরস্কার ঘোষণা

এর আগে চলতি মাসেই আরেক ইরান-সমর্থিত শক্তিশালী গোষ্ঠী কাতিব হিজবুল্লাহর নেতার তথ্যের জন্য একই ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই গোষ্ঠী গত মাসে মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে অপহরণ করে এক সপ্তাহ পর মুক্তি দেয়।

ওয়াশিংটনের চাপ

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাগদাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এর অংশ হিসেবে ইরাকে নগদ অর্থ সরবরাহ স্থগিত করা এবং নিরাপত্তা খাতে অর্থায়ন স্থগিতের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।