বাংলাদেশ ও সেনেগালের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঐকমত্য
বাংলাদেশ-সেনেগাল সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঐকমত্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সেনেগাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হয়েছে।

ডাকার ফোরামে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ নিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী নিয়াং ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং দীর্ঘ সফর সত্ত্বেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐতিহাসিক সফর স্মরণ

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৯৮১ সালের মার্চে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের কথা স্মরণ করা হয়। এটি ছিল কোনো বাংলাদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সেনেগাল সফর।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রাপ্ত গণরায় সম্পর্কেও তার সেনেগালি প্রতিপক্ষকে অবহিত করেন।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা

দুই মন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুসংহত করতে যত দ্রুত সম্ভব পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠক (এফওসি) আয়োজনের বিষয়ে একমত হন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার ও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যৌথ বাণিজ্য কমিশন (জেআরসি) গঠন এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ঢাকা।

বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, চামড়া, কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের সক্ষমতার কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রী নিয়াং আফ্রিকায় শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন এবং বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে সেনেগালের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

কূটনৈতিক মিশন ও সফর

দুই পক্ষ একে অপরের রাজধানীতে আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার সম্ভাবনাও আলোচনা করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি নীতিগতভাবে সুবিধাজনক সময়ে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সেনেগালে মনোনীত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা।

সাক্ষাৎকারে সরকারের উদ্যোগ

পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় দৈনিক ‘লে সোলেইল’ ও সেনেগালের জাতীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় নতুন সরকারের উদ্যোগ, বিশেষ করে নারীর কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।