ভারতের শাসক দল বিজেপির সাংসদ নিশিকান্ত দুবেয় সম্প্রতি এক্স-এ পোস্ট করা এক বার্তায় বাংলাদেশের সাথে যৌথ নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মন্তব্যে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘পানি কি বাংলাদেশে যায়?’ এই প্রশ্নটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি এই পানি প্রবাহকে অন্যায্য ও অস্বাভাবিক মনে করেন।
দুবেয়ের দাবি ও বাস্তবতা
দুবেয় তার পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে ভারতের কংগ্রেস সরকার পূর্ববর্তী চুক্তির মাধ্যমে ভারতের প্রয়োজন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের সাথে পানি ভাগ করে নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি ছাড়া অন্য কোনো প্রধান নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নেই। ভারত একতরফাভাবে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৮৭ সালের পর কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থাও নেই।
বাংলাদেশের ক্ষতি
ভারতের বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের নদীপ্রবাহ কমে গেছে। বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, নাব্যতা কমে যাচ্ছে, এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির অত্যধিক ব্যবহারে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে পানি স্তর বছরে ১-৩ মিটার হারে কমছে।
আন্তর্জাতিক আইন
জাতিসংঘের জলধারা কনভেনশন ১৯৯৭-এর ‘নো-হার্ম নীতি’ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র নিম্নবর্তী রাষ্ট্রের ক্ষতি করে এমন বাঁধ নির্মাণ করতে পারে না। ভারত এই নীতি লঙ্ঘন করছে।
বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে নীরব নীতি অনুসরণ করে আসছেন। দুবেয়ের মন্তব্য ভবিষ্যত পানি বণ্টন আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের উচিত জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারতের সাথে চুক্তি করা।



