ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, সেজন্য চুক্তিতে আরও কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত করতে চাচ্ছেন তিনি। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
একই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ করেন যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে খামেনির ‘সাহসিকতা’র প্রশংসাও করেন ট্রাম্প।
চুক্তিতে অতিরিক্ত শর্ত
ট্রাম্প এনবিসিকে বলেন, দুই পক্ষ চুক্তিতে সই করার খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, সেজন্য তিনি অতিরিক্ত কিছু বিধি-নিষেধ যোগ করতে চান। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমাদের হাতে কয়েকটি পয়েন্ট আছে। এগুলোকে খুব বড় পয়েন্ট বলে মনে হয় না... তারা পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়টি মেনে নিয়েছে। চুক্তিতে আমাদের একটি ধারা ছিল যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। আমি ছাড়া বাকি সবাই এই ধারায় খুব খুশি ছিল।’
চুক্তিতে আরও একটি বাড়তি ধারা যুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বললাম, আচ্ছা, তারা যদি অস্ত্র তৈরি না করে বাইরে থেকে কিনে নেয় বা অন্য কোনো উপায়ে তা অর্জন করে, তবে কী হবে? তাই আমি চুক্তিতে “যদি তারা কেনে বা অন্য কোনো উপায়ে অর্জন করে” শব্দগুলো যুক্ত করতে চাই... আপনারা জানেন, এই শব্দগুলোও সেখানে থাকা উচিত, কারণ এটি তো আর অস্ত্র তৈরি করা নয়। সুতরাং, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, ক্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে অর্জন করার কোনো অধিকার থাকবে না।’
ইউরেনিয়াম মজুত জব্দের পরিকল্পনা
দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের জিম্মায় নিয়ে তা ধ্বংস করে দেবে বলে জানান ট্রাম্প। তবে আলোচনা যদি ভেস্তে যায়, সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির জোরে এই পারমাণবিক উপাদান জব্দ করা এবং ইরানের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা চুক্তি করি এবং আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়, তবে আমরা সবাই একসঙ্গে চলব। ওসব (ইউরেনিয়াম মজুতকরণের সরঞ্জাম) আমাদের অধীনে চলে আসবে। তা ঘটনাস্থলে হোক বা অন্য কোথাও, আমরা তা বের করে এনে ধ্বংস করব।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আর যদি চুক্তি না হয়, তবে আমরা সামরিকভাবে তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব। সেটি করার আগপর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব, যার ফলে দুই পথেই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’
পূর্ববর্তী পরিকল্পনা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তি ছাড়াও মার্কিন বাহিনী চাইলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে পারে। তবে এই মুহূর্তে সেটির কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ ইরানি প্রশাসন এখন ওই মজুতের নাগাল পাচ্ছে না। তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, যুদ্ধের শুরুতে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ইউরেনিয়ামের মজুত জব্দ করতে মার্কিন সেনা পাঠানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি, কিন্তু সামরিক ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন। আলোচনা ‘সম্পন্ন’ না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার ইচ্ছার কথাও এনবিসিকে জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, চলমান যুদ্ধে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব এখন অনেক বেশি যৌক্তিক এবং অত্যন্ত কৌশলী আচরণ করছে।
মোজতবা খামেনির আহত হওয়া
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি বেশ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাই বলা যায় তার মধ্যে এক ধরনের সাহসিকতা রয়েছে। অনেকে এত গুরুতর আহত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের আলোচনা কতদূর এগোলো, তা নিয়ে কথা বলতেন না। তাদের মাথায় অন্য চিন্তা থাকত।’
খামেনির সুনির্দিষ্ট অবস্থান তিনি জানেন কি না কিংবা এই নেতা বর্তমানে ইরানেই আছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি কি জানি না, তা বলতে চাই না... তবে আমি তার অবস্থান জানি, এমন সম্ভাবনা প্রবল।’
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল



