শরীয়তপুর কারাগারে সাজা শেষেও ১৭ বিদেশি বন্দি ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না
শরীয়তপুর কারাগারে সাজা শেষে ১৭ বিদেশি বন্দি আটকে

শরীয়তপুর জেলা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে আটক ২০ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। বাকি ১৭ জনের সাজা শেষ হলেও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, তাদের সম্পূর্ণ পরিচয় নেই এবং ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

মৃত বন্দিদের লাশ সৎকারে বিপুল খরচ

মৃত তিন ভারতীয় নাগরিকের লাশ দীর্ঘদিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সৎকার করতে সরকারের ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মৃতরা হলেন সতেন্দ্র কুমার, বাবুল সিং ও রাজন।

সতেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তাদের লাশ হিমাগারে রাখার পর ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি সৎকার করা হয়। রাজন ২০২৫ সালের ২৯ মে মারা যান এবং তাকে ২ ডিসেম্বর মনোহর বাজার চিতাসালে সৎকার করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমানে বন্দি ১৭ ভারতীয় নাগরিকের অবস্থা

শরীয়তপুর কারাগারে এখন ১৪ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী ভারতীয় নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তারা সাজা শেষ করলেও রিলিজ প্রিজনার হিসেবে কারাগারেই আছেন। তারা ঠিকমতো খাবার খাচ্ছেন না, জামাকাপড় পরছেন না এবং তাদের ভাষা বোঝা যায় না। ফলে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এবং যে কোনো সময় মৃত্যু হতে পারে।

কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের বক্তব্য

শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ বলেন, ২০২২-২৩ সাল থেকে ২০ জন বিদেশি বন্দি ছিল। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। বর্তমানে বন্দিরা খাবার ও পোশাক গ্রহণ করছেন না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার যাতে বন্দিরা নিজ দেশে ফিরতে পারেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকন্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান তালকদার বলেন, বিদেশি বন্দির মৃত্যুতে লাশ হিমাগারে রাখা ও সৎকারে সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাদের নিজ দেশে পাঠানো উচিত।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কারাগারে ভারতীয় বন্দি আছেন, কেন আছেন তা ফাইল দেখে বলতে হবে।