ভারতের গুরুগ্রামের বান্স আলিয়ার গ্রামে এক নৃশংস ঘটনায় মাঝরাতে ফোনে কথা বলায় নিজের স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার স্বামী। শুক্রবার (৫ জুন) পুলিশ এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে নরেন্দ্র সিং (৩৭) তার স্ত্রী কাজল দেবীকে (৩৬) ফোনে কারো সাথে কথা বলতে দেখেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি জানতে চান স্ত্রী কার সাথে কথা বলছেন এবং তার হাত থেকে ফোনটি কেড়ে নিতে চান। কিন্তু কাজল দেবী ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সন্দেহের বশে প্রচণ্ড ক্ষোভে ওড়না দিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন নরেন্দ্র। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরিবারের অবস্থা
নরেন্দ্র ও কাজল দুজনেই একটি বেসরকারি সংস্থায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কাজল প্রতিদিন রাত ৮টার মধ্যে কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেও নরেন্দ্র ফিরতেন মাঝরাতে। ঘটনার সময় দম্পতির চার সন্তান বাড়ির ছাদে ঘুমাচ্ছিল। অভিযুক্ত স্বামীর সন্দেহ ছিল যে তার স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন।
আইনি ব্যবস্থা
উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার নাংলা দাওদার বাসিন্দা নরেন্দ্রর বিরুদ্ধে নিহতের বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে আইএমটি মানেসর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। গুরুগ্রাম পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত নরেন্দ্র সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার পরবর্তী তদন্ত জারি রেখেছে।
সূত্র: এনডিটিভি।



