তামিলনাড়ু বিজেপির সাবেক সভাপতি কে আন্নামালাই শুক্রবার (৫ জুন) দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। দল ছাড়ার খবর এবং নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেন এমন ক্রমবর্ধমান গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্র গ্রহণ
বিজেপির তামিলনাড়ু-সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নীতিন নবীন আন্নামালাইয়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে সাবেক এই আইপিএস কর্মকর্তার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
দৃষ্টিভঙ্গির অমিল
নীতিন নবীনের কাছে লেখা চিঠিতে আন্নামালাই বলেন, জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, তামিলনাড়ুকে নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়।
আন্নামালাইকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চেষ্টা চালানো হয়। দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন যে আন্নামালাইকে দলে ধরে রাখা সম্ভব হবে।
শেষ মুহূর্তের বৈঠক
এর আগে গত মঙ্গলবার আন্নামালাই নয়াদিল্লিতে নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আন্নামালাইয়ের নেতৃত্বে বিজেপির উত্থান
আন্নামালাইয়ের নেতৃত্বেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৩.৬ শতাংশ ভোট পাওয়া বিজেপি ২০২৪ সালে তাদের সর্বোচ্চ ১১.২ শতাংশ ভোট শেয়ার অর্জন করে। তবে ভোট বাড়লেও বিজেপি কোনো আসন জিততে পারেনি এবং খোদ আন্নামালাই নিজে কোয়েম্বাটোর আসনে পরাজিত হন।
পদ থেকে সরানো ও পরবর্তী অবস্থা
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে) প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে আন্নামালাইকে সরিয়ে নাইনার নাগেন্দ্রনকে রাজ্য সভাপতি করা হয়। এর পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোটের ছোট শরিক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটি আসন পেলেও, তাদের ভোট হার ২০২৪ সালের ১১ শতাংশ থেকে নেমে ৩ শতাংশের নিচে চলে যায়।



