বাংলাদেশ আইএলও সম্মেলনের সহসভাপতি নির্বাচিত, কূটনৈতিক সাফল্য
বাংলাদেশ আইএলও সম্মেলনের সহসভাপতি নির্বাচিত

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১ জুন ২০২৬ সোমবার শুরু হওয়া ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও সহসভাপতি নির্বাচন

জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বার্ষিক এই সম্মেলনের সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান–সংক্রান্ত বিশ্বের শীর্ষ এই সম্মেলনে সভাপতি পদে উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো দায়িত্ব পালন করবেন। সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জেরার্ডো মার্টিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যানও দায়িত্ব পালন করবেন।

বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও বাংলাদেশের ভূমিকা

আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহসভাপতি পদে সংস্থার ১৮৭টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গণতন্ত্রায়ণ, শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ। পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব

সম্মেলনের সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আইএলওর সদস্যরাষ্ট্র এবং অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। আইএলওর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন সর্বোচ্চ ফোরাম হিসেবে বিবেচিত হয়, যাকে বিশ্বের শ্রম সংসদ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

সম্মেলনের গুরুত্ব

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সরকার, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।