ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে চরম উদ্বেগ ও অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে আশ্বস্ত করে বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে। রবিবার ইসরায়েলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ
শনিবার রাতে দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ হয়। তবে এর আগের সপ্তাহে তাদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল, যেখানে নেতানিয়াহু ইরানে পুনরায় হামলার পক্ষে ছিলেন এবং ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও সময় দিতে চেয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই আলোচনায় ইসরায়েলকে প্রায় পুরোপুরি বাদই রেখেছে আমেরিকা।
ইসরায়েলের উদ্বেগ
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মূল উদ্বেগ হলো, এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিকে পেছনে ঠেলে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সিকিউরিটি ক্যাবিনেটের একজন সদস্য ব্যক্তিগত আলাপে এই চুক্তির শর্তগুলোকে 'ভীষণ খারাপ' বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি ইরানের পারমাণবিক ও সন্ত্রাসী সক্ষমতা ধ্বংস না করেই দেশটিকে 'সময়, অর্থ ও আঞ্চলিক শান্তি'র সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক চুক্তির শর্ত
জানা গেছে, প্রাথমিক চুক্তিতে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ৬০ দিন পর পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে। চুক্তিতে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা থাকলেও হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কোনো শর্ত নেই।
ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্প ওই কর্মকর্তাকে স্পষ্ট করেছেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং তাদের ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি অটল থাকবেন এবং এই শর্ত পূরণ না হলে চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করবেন না। নেতানিয়াহু অবশ্য ট্রাম্পকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননসহ সব ক্ষেত্রেই যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েল তার স্বাধীন পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার বজায় রাখবে।
যুদ্ধবিরতি ও প্রতিক্রিয়া
চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে হিজবুল্লাহ কোনো উসকানি বা হামলা চালালে ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানতে পারবে। আমেরিকার এই চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে, যার ফলে তারা তেল বাণিজ্য করার সুযোগ পাবে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এক ইরানি সূত্র দাবি করেছে প্রাথমিক চুক্তিতে তারা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি।
মার্কিন রাজনীতিতে সমালোচনা
এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ বিষয়টিকে 'বিপর্যয়কর ভুল' বলে আখ্যা দিয়েছেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্য 'দুঃস্বপ্ন' বয়ে আনবে। তবে ভারতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না। এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহু তার নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের সঙ্গে একটি সীমিত বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।



