ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে আদানির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার
ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে আদানির মামলা প্রত্যাহার

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারপারসন গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার জালিয়াতি মামলা থেকে এই ধনকুবেরকে রক্ষা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই দিনে আদানির একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হয়। খবর রয়টার্সের।

মামলা নিষ্পত্তির সময় ও প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানায়, বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি আসে এমন এক সময়ে যখন আদানির আইনজীবী কি না একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীও। গত মাসে এই আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তার মক্কেল যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চান। তবে মামলাগুলো চলমান থাকায় তিনি তা করতে পারছিলেন না।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আদানির বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছিল। কিন্তু, ট্রাম্পের বিচার বিভাগ তার পূর্বসূরির আমলে আনা একটি হাই-প্রোফাইল মামলা বাতিল করলো। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, গৌতম আদানির আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৮২ বিলিয়ন ডলার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন, যাতে আদানি গ্রিন এনার্জি ভারতের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন পেতে পারে। পরে তিনি কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে আশ্বস্তমূলক তথ্য দিয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছিলেন বলেও অভিযোগ আনা হয়।

প্রসিকিউটররা জানান, আদানি এবং তার কথিত সহযোগীরা ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দুর্নীতির তথ্য গোপন করে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শুরু থেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে আনিত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল আদানি গ্রুপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তি

সোমবারের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, আদানি এন্টারপ্রাইজ নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২৭৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, আদানি এন্টারপ্রাইজ দুবাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনেছিল, যিনি দাবি করেছিলেন গ্যাসটি ওমান ও ইরাক থেকে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে তা ইরান থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল।

আদানি এন্টারপ্রাইজ ভারতেও এলপিজি আমদানি বন্ধ করেছে এবং ট্রেজারি বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলা নিশ্চিত করতে ‘হেড অব কমপ্লায়েন্স’ নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টি করেছে।

দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তি

এদিকে, ইউএস সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আদানির বিরুদ্ধে আনা একটি দেওয়ানি মামলাও আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করেছে বলে গত সপ্তাহের আদালতের নথিতে দেখা গেছে। তবে এই নিষ্পত্তি কার্যকর হতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।