ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ওয়াশিংটনের ওপর কোনো আস্থা নেই, শান্তি চুক্তিতে আন্তরিকতা চাই
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ওয়াশিংটনের ওপর কোনো আস্থা নেই

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের ওপর তেহরানের ‘কোনো আস্থা নেই’। তবে ওয়াশিংটন যদি শান্তি চুক্তির বিষয়ে সত্যিই আন্তরিক হয়, তবেই কেবল ইরান তাদের সঙ্গে আলোচনা টেবিলে বসতে আগ্রহী।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে আরাগচির বক্তব্য

ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ভারত সফরে থাকা আরাগচি শুক্রবার (১৫ মে) নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থগিত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান

আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি ‘যুদ্ধে লিপ্ত’ নয়, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে; তবে এ জন্য অবশ্যই ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে ইরান সব সময় তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার অচলাবস্থা

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি তেল-গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মূল রুট এই প্রণালিতে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয়। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের সন্দেহ

আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাংঘর্ষিক বার্তার’ কারণে তেহরানের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তবে এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। গত ১৩ মাসে দুই দফা আলোচনা শুরু হলেও প্রতিবারই ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আলোচনা থামিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরান বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলেও, প্রয়োজনে আবারও যুদ্ধে ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও চীনের মধ্যস্থতা

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আরাগচির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে এক কড়া বার্তা দেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতি তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে এবং তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। বেইজিংয়ের এই মধ্যস্থতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে তাঁদের কৌশলগত ও অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। চীনের উদ্দেশ্য ভালো এবং কূটনীতিতে সহায়তা করতে বেইজিংয়ের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগকেই ইরান স্বাগত জানাবে। তারা আশা করছেন, আলোচনার অগ্রগতির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ হবে এবং দ্রুত নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হবে।