পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা নিরসনে ভারতকে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখতে চায় রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, বর্তমান ব্রিকস চেয়ারম্যান হিসেবে এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ভারত ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।
ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতার প্রশংসা
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিয়ে ল্যাভরভ বলেন, দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তার মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানে পাকিস্তান সহায়তা করলেও, ইরান ও তার প্রতিবেশী আরব মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ভারতই সবচেয়ে উপযুক্ত পক্ষ। বিশেষ করে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে সম্প্রতি তৈরি হওয়া প্রতিকূল পরিস্থিতি এড়াতে নয়াদিল্লি দেশ দুটিকে আলোচনার টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নিতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোদির আমিরাত সফরের প্রেক্ষাপট
রাশিয়ার এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে রয়েছেন। ল্যাভরভ উল্লেখ করেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভারতের সরাসরি স্বার্থ জড়িত। ব্রিকস-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারত যদি তেহরান ও আবুধাবিকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায়, তবে তা ওই অঞ্চলে যে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচনা
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে শত্রুতা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে। তিনি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই কর্মকাণ্ডকে উস্কানিমূলক আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মস্কো সবসময়ই উত্তেজনা কমানোর পক্ষে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং শত্রুতা দূর করতে কূটনীতি ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণকেই একমাত্র সমাধান বলে মনে করে রাশিয়া। ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব বলে ক্রেমলিন বিশ্বাস করে।
সূত্র: এনডিটিভি।



