মাত্র ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার খাটো মানুষ (বামন) মো. হাইয়ুল মিয়া নিজের কলেজ ক্যাম্পাস শুধু নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচিত শিক্ষার্থী। তিনি গৌরীপুর সরকারি কলেজের অনার্স (সম্মান) সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্র। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে বেড়েছে তাঁর কদর। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত আন্ত:ক্রীড়া অনুষ্ঠানে গিয়ে সবার দৃষ্টি ও আলোচনায় উঠে আসে তাঁর নাম।
শিক্ষাজীবনের সাফল্য
নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান মো. হাইয়ুল মিয়া। তিনি ড. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৯ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৩৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০২১ সালে গৌরীপুর ইসলামাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৫৬ পান। ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতেও কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করেন।
প্রতিকূলতা জয় করার গল্প
হাইয়ুল মিয়া জানান, যখন মাদ্রাসা বা কলেজে এসেছি প্রথমদিকে অনেকেই আড়চোখে তাকাত। অনেকের হাসি-ঠাট্টার খোরাকও হয়েছি। তবে কখনো হাল ছাড়েননি। প্রতিবন্ধকতা দূর এবং সব বাধা অতিক্রম করে সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই। অনেক বড় পরিবার, আর্থিক অনটন থাকলেও পরিবারের সবাই আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন।
পরিবার ও দৈনন্দিন জীবন
হাইয়ুল মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বিসকা গ্রামে। বাবা মো. ইউনুছ আলী পেশায় একজন কৃষক আর তার মা ফিরোজা খাতুন পেশায় গৃহিণী। ৪ ভাই আর ২ বোনের বড় একটি পরিবারে তার জন্ম হয়। বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। প্রতিদিন সাইকেলে করে কলেজে আসি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছিলাম ক্লাসে নিয়মিত। লেখাপড়ার খরচ বাড়ছে আর পায়েরও চিকিৎসা প্রয়োজন; কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
লেখাপড়া চালিয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করতে চাই। চাই সরকারি চাকরি। তিনি আরও জানান, এক সময় যারা আমাকে আড়চোখে তাকাত, তারাই এখন আমাকে অনেক আদর করে। কলেজের স্যাররাও আমাকে সাহস জোগান। ফাইনাল ইয়ারে (৪র্থ বর্ষে) আছি, বেড়েছে লেখাপড়ার খরচও। যে সাইকেলটি দিয়ে আসি, সেটাও বারবার নষ্ট হয়ে যায়। তালিজোড়া দিয়েই চলছে অগ্রযাত্রা। যত বাধাই আসুক, চাই জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে।
শিক্ষকদের মূল্যায়ন
ইসলামাবাদ ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. এমদাদুল হক জানান, সে প্রতিবন্ধকতা জয় করে নিয়মিত ক্লাসে হাজির হতো। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গেও তার আচরণ ছিল ভালো। সে অত্যন্ত মিষ্টভাষী।



