চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে এবার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠল বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘রাষ্ট্রীয় ভোজ’। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত এই ভোজসভাটি ছিল প্রতীকী এবং রন্ধনশৈলীর এক অনন্য সংমিশ্রণ। যেখানে চীনা ঐতিহ্যের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত পছন্দও।
হুয়াইয়াং রন্ধনশৈলীর বিশেষত্ব
চীনের রাষ্ট্রীয় ভোজের মূল আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত হুয়াইয়াং রন্ধনশৈলী। হালকা ও স্নিগ্ধ স্বাদের জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের খাবার বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য মেনুতে আনা হয়েছিল বিশেষ পরিবর্তন। তার ‘ওয়েল-ডান’ বা সুসিদ্ধ স্টেক খাওয়ার পছন্দের প্রতি সম্মান জানিয়ে গরুর পাঁজরের মাংসের বিশেষ একটি পদ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি পরিবেশন করা হয়েছিল চীনের বিশ্বখ্যাত সিগনেচার ডিশ ‘বেইজিং হাঁসের রোস্ট’ বা বেইজিং ডাক।
মিষ্টি আইটেমে বৈচিত্র্য
মিষ্টির আইটেমেও ছিল বিশেষ বৈচিত্র্য। অতিথিদের জন্য তিরামিসু, ফল ও আইসক্রিমের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয়েছে ‘ট্রাম্পেট-শেল’ বা শঙ্খ আকৃতির বিশেষ পেস্ট্রি। চীনের ইতিহাসে খাবারকে বারবার কূটনীতির শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে কিসিঞ্জারের সফর থেকে শুরু করে হালের জ্যানেট ইয়েলেন কিংবা জো বাইডেন—সবার ক্ষেত্রেই চীনা খাবার বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হুয়াইয়াং খাবারের বৈশিষ্ট্য
সাংহাইয়ের অভিজাত শেফদের মতে, হুয়াইয়াং খাবার যে কোনো দেশের অতিথির রুচির সঙ্গে মানিয়ে যায়। এর বিশেষ পদের মধ্যে রয়েছে সিংহের মাথা: নরম মাংসের তৈরি বড় মিটবল। ওয়েনসি তোফু: তোফুর খণ্ডকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কয়েক হাজার সরু সুতার মতো কেটে তৈরি করা পদ। স্কুইরেল ফিশ: মিষ্টি-টক সসে ডুবো তেলে ভাজা মাছ।
খাদ্য লেখক ক্রিস্টোফার সেন্ট ক্যাভিশের মতে, এই খাবারগুলো সিচুয়ান অঞ্চলের মতো খুব বেশি ঝাল নয়, আবার উত্তরের খাবারের চেয়েও হালকা। ফলে বিদেশি অতিথিদের জন্য এটি সব সময়ই একটি ‘নিরাপদ’ ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৪৯ সালে চীন প্রতিষ্ঠার সময় থেকে শুরু করে ১৯৯৯ সালের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের সফর—সবখানেই হুয়াইয়াং খাবার ছিল প্রধান আকর্ষণ। ইয়াংসি নদী অববাহিকার মিঠাপানির মাছ ও বাঁশের কোঁড়লের সতেজ স্বাদ এই ভোজসভাকে আভিজাত্যের অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।



