বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি চীনের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে বেইজিংয়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় দেশটিতে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।
বৈঠকের বিবরণ
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক 'গ্রেট হল অব পিপল'–এ প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্পের অন্য সফরসঙ্গীদের সঙ্গে ছিলেন রুবিও। এ নিয়ে এখন কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা চলছে।
নিষেধাজ্ঞার সমাধান
আল জাজিরা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুবিওর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে চীন নিজেই। কৌশলগতভাবে তাকে একটি নতুন চীনা নাম ব্যবহার করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
২০২০ সালে যখন রুবিও সিনেটর ছিলেন, তখন হংকং ও জিনজিয়ান ইস্যুতে চীনের সমালোচনার জেরে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় বেইজিং। টেড ক্রুজসহ আরও কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতার ওপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রুবিওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার পর চীন সফরের বিষয়টি জটিল হয়ে দাঁড়ায়। গত মার্চ মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছিলেন, প্রয়োজনে রুবিওর বিরুদ্ধে থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই সমাধান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ট্রাম্পের এত গুরুত্বপূর্ণ সফরে রুবিওকে বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল না। চীনও কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সামাল দিয়ে দুই দেশের বৈঠক সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।



