ইরান দূতাবাসের শামুক পোস্টে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ
ইরান দূতাবাসের শামুক পোস্টে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক লড়াই এবার এক অনন্য ও শ্লেষাত্মক মাত্রা পেয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে অবস্থিত ইরান দূতাবাস সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্টের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বিদ্রূপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি রূপক ছবির মাধ্যমে দেওয়া এই পোস্টে ইরানের ওপর দিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান নীতি ও গতিকে অত্যন্ত মন্থর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।

ছবির বিবরণ

দূতাবাসের শেয়ার করা ওই ছবিতে দেখা যায়, একটি শামুক একটি ধারালো ব্লেডের ওপর দিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে পার হচ্ছে। বিশেষ নজর কেড়েছে শামুকটির অবয়ব, যার মাথায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিগনেচার স্টাইলের সোনালী চুলের মতো একটি রূপক অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে ব্লেডটির ওপর দিয়ে শামুকটি চলছে, সেখানে বড় অক্ষরে খোদাই করা রয়েছে ‘IRAN’ (ইরান) শব্দটি।

ক্যাপশনের ভাষ্য

ছবির ক্যাপশনে দূতাবাস লিখেছে, ‘ধারালো ব্লেডের কিনারায় দাঁড়িয়েও শেখার ক্ষেত্রে তার গতি বড়ই মন্থর।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতিকে কটাক্ষ করে দেওয়া একটি ডিজিটাল বার্তা। এখানে ‘ধারালো ব্লেড’ দিয়ে ইরানের শক্তি বা যুদ্ধের ঝুঁকিকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শামুকের সঙ্গে তুলনা করে তার কৌশলকে অদূরদর্শী ও মন্থর হিসেবে বিদ্রূপ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের কূটনৈতিক কৌশল

ইদানীং ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলো বিশ্বমঞ্চে সরাসরি বক্তব্যের বদলে এমন রূপক ও শ্লেষাত্মক উপায়ে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে চরম উত্তপ্ত। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে তেহরান বিভিন্ন সময় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। সিয়েরা লিওনে ইরানের এই ডিজিটাল প্রচারণা সেই উত্তপ্ত সম্পর্কেরই একটি ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিক্রিয়া

এই বিদ্রূপাত্মক পোস্টের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, আধুনিক কূটনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া যে একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, এই ঘটনাটি তারই বড় প্রমাণ।