মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমবারের মতো বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে তার সঙ্গী হওয়া নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা ছিল, কারণ রুবিওর ওপর চীনের দ্বিপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক এক ‘ভাষাগত কৌশলে’ তার নামের বানান বদলে দিয়ে এই বাধা দূর করেছে বেইজিং।
নিষেধাজ্ঞার পটভূমি
সিনেটর থাকাকালীন রুবিও চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। এর জের ধরে বেইজিং তার ওপর দুবার নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে চীনে প্রবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর চীন এক অভিনব সমাধান খুঁজে বের করে। গত জানুয়ারিতে রুবিও দায়িত্ব নেওয়ার কিছু আগে থেকেই চীনা সরকার ও সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার নামের প্রথম অক্ষর ‘লু’ লিখতে আগের চেয়ে ভিন্ন একটি চীনা বর্ণ ব্যবহার করতে শুরু করে।
কূটনৈতিক ভাষাগত কৌশল
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, তারা বিশ্বাস করেন যে নামের বানান পরিবর্তনের মাধ্যমেই রুবিওর ওপর থাকা আগের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাটি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে চীন। মঙ্গলবার চীন জানিয়েছে, রুবিওর অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য তারা তাকে বেইজিং সফরে বাধা দেবে না। চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গু বলেন, ‘সিনেটর থাকাকালীন চীনের বিষয়ে তার কথা ও কাজের ওপর ভিত্তি করেই ওই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।’
অন্যদিকে, গত বছর এই ভাষাগত পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছিলেন, বিষয়টি তিনি খেয়াল করেননি। তবে তিনি আরও বলেছিলেন যে, রুবিওর ইংরেজি নামটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চীনা ভাষায় নামের প্রতিবর্ণীকরণ
চীনা ভাষায় পশ্চিমা নামের প্রতিবর্ণীকরণের ক্ষেত্রে একাধিক বানান ব্যবহারের বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। খোদ ট্রাম্পের নামেরও দুটি চীনা সংস্করণ রয়েছে। সরকার ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাকে ‘তেলাংপু’ বলে ডাকে, তবে অনেকে তাকে ‘চুয়ানপু’ নামেও চেনেন।
ট্রাম্পের বেইজিং সফর
বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এই রাষ্ট্রীয় সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে রুবিও ট্রাম্পের সঙ্গেই সফর করছেন। তাকে অ্যান্ড্রুস এয়ার ফোর্স বেসে ‘এয়ার ফোরস ওয়ান’-এ চড়তেও দেখা গেছে।
রুবিওর রাজনৈতিক অবস্থান
কিউবান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত রুবিও কট্টর সাম্যবাদবিরোধী হিসেবে পরিচিত। উইঘুর মুসলিমদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনের অন্যতম রচয়িতা তিনি। হংকংয়ে বেইজিংয়ের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেও তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ট্রাম্পের সুরেই কথা বলছেন, যিনি শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং মানবাধিকারের চেয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অবশ্য গত বছর রুবিও তাইওয়ানকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির খাতিরে তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আপস করবে না ট্রাম্প প্রশাসন।



